1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মিউচুয়াল ফান্ডের চাঙ্গাভাব: ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেত্রকোণায় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ বাবা-মেয়ে গ্রেফতার পাকিস্তানের লাহোরে আবাসিক ভবন ধসে ১১ জনের মৃত্যু, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত জীবনস্বত্ব রেখে সন্তানকে সম্পত্তি নিবন্ধনের বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ রাজনীতিতে পরিবেশ নষ্ট করলে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫ ভয়ভীতির অভিযোগে মুখ খুললেন জামায়াত আমির চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার আগে জানতেন না নিজের জন্মদিনের তারিখ: অভিনেতা ধানুশ

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তা ইস্যুতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতার রূপরেখাসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইরান সংকট মোকাবেলা, সিরিয়ার সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন কৌশলগত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

হোয়াইট হাউসের বৈঠক শেষে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামগ্রিক আলোচনাকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেও এই বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে উভয় নেতাই তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা কিংবা অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে তাদের দৃঢ় ও সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে ইরানের বর্তমান মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে ছিল ইরান কৌশল। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত অবস্থান মোকাবেলায় মার্কিন প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিয়ে বিস্তারিত ও পর্যালোচনামূলক আলোচনা হয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানো; দ্বিতীয়টি হলো প্রণালি ও সমুদ্রপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখে অর্থনৈতিক চাপ উত্তরোত্তর বাড়ানো; এবং তৃতীয়টি হলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনে পুনরায় ব্যাপকভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট একটি বিকল্পকে এককভাবে প্রাধান্য দেওয়ার বদলে প্রতিটি পথ অবলম্বন করলে তার দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক প্রভাব ও কৌশলগত ফলাফল কী হতে পারে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইরানের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে সেখানকার সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক সংকটের ফলে উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ জনঅসন্তোষ নিয়ে তেহরানের নীতি নির্ধারকরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন কূটনৈতিক কৌশলের ওপর চাপ সৃষ্টির শেষ কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এ কারণে সামরিক ও অসামরিক উভয় কৌশলের সমন্বয়ে তেহরানের ওপর ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আঞ্চলিক ভৌগোলিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে বিশদ আলোচনা করা হয়। সিরিয়ার বর্তমান অভ্যন্তরীণ অবস্থা এবং সে দেশে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার চিত্র ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য সিরিয়ায় তুর্কি সামরিক বাহিনীর অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল সীমান্তে একটি সীমিত বাফার জোনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে অবস্থানরত বিভিন্ন চরমপন্থী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তরফ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বাফার জোনে সামরিক পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বলয় অব্যাহত রাখার পক্ষ অবলম্বন করা হয়, যেন বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত না হয়।

এ ছাড়া ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে সম্ভাব্য বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির বিষয়টি আলোচনার টেবিলে উঠে আসে। মার্কিন প্রশাসন এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং একটি নতুন আঞ্চলিক ভারসাম্য গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত গোপন রাখা হলেও এই ইস্যুতে বাস্তব অগ্রগতি দেখা গেলে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক অবস্থান ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের প্রস্তাব পেশ করা হয়। বিগত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী এক দশকের মধ্যে ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতায় স্বনির্ভর করে তোলার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব থেকে প্রতিরক্ষা খাতকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যৌথ গবেষণাকে উদ্বুদ্ধ করতেই এই নতুন কৌশল প্রস্তাব করা হয়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যার অধীনে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি সামরিক সহায়তা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান বরাদ্দের রূপরেখা রয়েছে। একই সাথে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ভবিষ্যতের আধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ যৌথ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা, নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কৌশলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে দূরগামী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহায়তার নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি ভারসাম্যের কৌশল বাস্তবায়িত হলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026