1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মিউচুয়াল ফান্ডের চাঙ্গাভাব: ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেত্রকোণায় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ বাবা-মেয়ে গ্রেফতার পাকিস্তানের লাহোরে আবাসিক ভবন ধসে ১১ জনের মৃত্যু, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত জীবনস্বত্ব রেখে সন্তানকে সম্পত্তি নিবন্ধনের বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ রাজনীতিতে পরিবেশ নষ্ট করলে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫ ভয়ভীতির অভিযোগে মুখ খুললেন জামায়াত আমির চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার আগে জানতেন না নিজের জন্মদিনের তারিখ: অভিনেতা ধানুশ

গাজায় অন্তত একজন অভিভাবক হারিয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শিশু: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল ও গাজার মধ্যকার সংঘাত চলাকালে গাজা উপত্যকায় ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু বাবা অথবা মায়ের অন্তত একজনকে হারিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, পিতা-মাতাকে হারিয়ে অনাথ ও এক-অভিভাবকনির্ভর হয়ে পড়া এই শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা, দৈনন্দিন জীবনধারণ এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। উপত্যকাজুড়ে অবকাঠামো ধ্বংস এবং খাদ্য ও চিকিৎসার চরম সংকটের মধ্যে বিপুল সংখ্যক অভিভাবকহীন শিশুর ব্যবস্থাপনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উপত্যকাটির মোট ৬০ হাজার ৭৩৭ জন শিশু তাদের বাবা অথবা মায়ের যেকোনো একজনকে হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিস্বরূপ তাদের পিতাকে। তথ্যমতে, ৫২ হাজার ৯৫ জন শিশু পিতৃহীন হয়েছে। অন্যদিকে, বিমান ও বোমারু হামলায় মায়ের মৃত্যু হওয়ায় মাতৃহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ৫ হাজার ৯২৯ জন শিশু। এছাড়া সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতিতে পড়েছে ২ হাজার ৭১৩ জন শিশু, যারা একই সাথে বাবা ও মা—উভয়কেই হারিয়ে সম্পূর্ণ এতিম হয়ে পড়েছে। গাজার সমাজসেবা ও এতিম সুরক্ষা অবকাঠামো পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার মতো নিকটাত্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানও খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে গাজার পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবের আরও একটি মারাত্মক চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল অভিযানে অন্তত ২ হাজার ২৭৬টি পরিবার সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এসব পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮৫৮ জন। কোনো এক পরিবারের কোনো একক সদস্য বা দূরবর্তী আত্মীয়ও জীবিত না থাকায় গাজার প্রশাসনিক নাগরিক নিবন্ধন (সিভিল রেজিস্ট্রি) থেকে ওই সব পরিবারের নাম ও অস্তিত্ব চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে। একটি পুরো বংশের সব সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু গাজার জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ও সামাজিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করেছে।

সার্বিক প্রাণহানি ও সংঘাতের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে পরিচালিত হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর গত অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলেও গাজাজুড়ে আক্রমণ সম্পূর্ণ স্থগিত হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিচ্ছিন্ন হামলায় নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। প্রতিনিয়ত সামরিক হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মানবাধিকার গবেষক ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, অভিভাবক হারানো শিশুদের এই পরিসংখ্যান গাজার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জাতিসংঘ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, মা-বাবাকে চোখের সামনে মৃত্যুবরণ করতে দেখে গাজার হাজার হাজার শিশু গভীর মানসিক ট্রমা ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগছে। এর পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস হওয়ায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে দেখা দিয়েছে পুষ্টিহীনতা, সংক্রামক ব্যাধি এবং বাসস্থানহীনতার তীব্র সংকট। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হলেও বাস্তবে গাজার এতিম শিশুদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল অবশিষ্ট নেই।

আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি এসব শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা করা না হলে এই বিশাল শিশু জনগোষ্ঠী স্থায়ী সামাজিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে অভিভাবকহারা এই শিশুদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026