আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের লাহোরে একটি তিনতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। নিহতের সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে উদ্ধারকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও এক শিশু আটকা পড়ে আছে সন্দেহে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে লাহোরের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তিনতলা ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় ভবনের ভেতরের বাসিন্দারা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ভবনটির শীর্ষ তলা থেকে ধস শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে পুরো কাঠামোটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি সেবায় খবর দেন এবং প্রাথমিক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাকিস্তানের জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর একাধিক দল। তাদের সাথে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। তবে কাঠামোগত জটিলতা এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুর্ঘটনাস্থলে ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন এনে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়। দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাাহত রাখা হয়েছিল।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের মুখপাত্র হারিস আলি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা নিখোঁজ শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুরোনো ও দুর্বল কাঠামোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নাকি অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা এবং ব্যবহৃত সামগ্রীর মান খতিয়ে দেখতে নির্দে শ দেওয়া হয়েছে। লাহোরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিতই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। এই ঘটনার পর এলাকার অন্যান্য পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।