নিজস্ব প্রতিবেদক
শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে ব্যাধিমুক্ত করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগির সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুবয়স থেকেই উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি রোগ যাতে না হয় সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। এ জন্য দেশে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অনিরাময়যোগ্য ও জটিল ব্যাধির বিস্তার প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্যানসার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক ও আর্থিক কষ্টের সীমা থাকে না। এ ছাড়া শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের অভাব ও সঠিক মাতৃদুগ্ধ পানের অভাবে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে।
রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ এবং সঠিক পরামর্শ রোগীর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কোনো নাগরিক যাতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার হেলথ কার্ড ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকর রোগী রেফারেল সিস্টেম সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে এতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।