আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রবাসী কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্র বা আকামা বৈধ করার সময়সীমা চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সৌদি আরব সরকার। যেসব কর্মীর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ দীর্ঘ দিন আগে শেষ হয়ে গেছে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অনুমতিপত্র ইস্যু হয়নি, তারা এই সুযোগের আওতায় নিজেদের কাগজপত্র নিয়মিত করার অতিরিক্ত সময় পাবেন।
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জানায়, নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রবাসী কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা দূর ও শ্রম বাজারকে নিয়মতান্ত্রিক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অভিবাসী কর্মী ও তাদের নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাড়তি সময় পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মূলত দুটি ক্যাটাগরির প্রবাসী কর্মীরা এই বর্ধিত সময়সীমার সুবিধা পাবেন। প্রথমত, যেসব প্রবাসী কর্মীর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ১২ মাসেরও বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, যেসব কর্মী নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে বা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজের অনুমতিপত্র পাননি। এই দুই শ্রেণির কর্মীরা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো প্রকার আইনি জটিলতা ছাড়াই তাদের কাগজপত্র সংশোধন ও নিয়মিত করতে পারবেন।
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির শ্রম আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং চাকরি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের—অর্থাৎ নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়ের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাতে প্রতিষ্ঠান ও কর্মীরা কোনো রকম জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই নিজেদের কাগজপত্র আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই সময় বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় সকল নিয়োগকর্তা ও প্রবাসী কর্মীদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজের অনুমতিপত্র নবায়ন অথবা নতুন করে সংগ্রহের জন্য তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, এই বিশেষ সাধারণ ক্ষমার মেয়াদের মধ্যে যদি নিয়মবহির্ভূত বিষয়গুলো সংশোধন করা না হয়, তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও অবৈধ কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত কঠোর শ্রম আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী, যারা বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আকামা নবায়ন করতে পারেননি কিংবা নতুন এসেও আকামা পাননি, তারা বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রবাসীরা বৈধ পন্থায় কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে পারবেন এবং এর ফলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।