1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
গাঁজা আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ওসি প্রত্যাহার গণতন্ত্র সুসংহতকরণ ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্যবসা থেকে ট্রাম্পের শত কোটি ডলার আয়, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার হোয়াইট হাউজের ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার মেক্সিকোকে নকআউটের টিকিট এনে দিল কিনিয়োনেস ও জিমেনেজ ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ মুন্সীগঞ্জে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের বিল পাসের উদ্যোগ, লেবাননে অবস্থান জোরদারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর নকআউটের দীর্ঘদিনের খরা কাটাল ব্রাজিল জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের নির্দেশ

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্যবসা থেকে ট্রাম্পের শত কোটি ডলার আয়, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার হোয়াইট হাউজের

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাত, বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) সংক্রান্ত লেনদেন থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন। দেশটির সরকারি নৈতিকতা বিষয়ক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া ২০২৫ সালের বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ট্রাম্পের ৯২৭ পৃষ্ঠার এই বিশদ আর্থিক বিবরণী থেকে প্রকাশ পায় যে, আবাসন ব্যবসার চেয়ে বর্তমানে ডিজিটাল সম্পদই তার আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। তবে ট্রাম্প পরিবারের এই বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ মার্কিন প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউজ।

বার্ষিক বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্তান এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি থেকে গত বছর ট্রাম্পের আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলারের বেশি। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে তার নামে চালু হওয়া একটি ‘মেমে কয়েন’ বা ডিজিটাল টোকেনের রয়্যালটি বাবদ তিনি আরও ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই টোকেনের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি, আবাসন খাত ও ট্রাম্প ব্র্যান্ডের অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছেন তিনি। ২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্পের আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বিশাল আয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এতে কোনো ধরনের ‘স্বার্থের সংঘাত’ নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের উপ-প্রেস সচিব অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে জানান, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প তার ব্যবসায়িক স্বার্থসমূহ একটি স্বাধীন ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করেছেন, যা বর্তমানে তার সন্তানেরা পরিচালনা করছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বব্যাপী ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের স্বার্থকে বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প নিজেও অতীতে উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত বিধিমালা রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এক সময় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘আসন্ন বিপর্যয়’ বলে তীব্র সমালোচনা করলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আর্থিক বিবরণী বলছে ভিন্ন কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিরচেনা আবাসন ব্যবসা ও গলফ ক্লাবের আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে এই ডিজিটাল খাতের উপার্জন। বিবরণী অনুযায়ী, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে ট্রাম্পের আয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ডোরালের গলফ ক্লাব থেকে এসেছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এছাড়া নিউ জার্সি, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরিতে অবস্থিত গলফ রিসোর্টগুলো থেকে প্রতিটি খাত বাবদ ৩ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন তিনি। ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ঘড়ি, বিশেষ সংস্করণ বাইবেল, জুতো, সুগন্ধি এবং গিটার বিক্রি থেকেও বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি যুক্ত হয়েছে তার তহবিলে। প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পও তার আত্মজীবনীমূলক প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে ১ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং ডিজিটাল ছবি বা এনএফটি (Non-Fungible Token) বিক্রি থেকে ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের করা আইনি মামলার নিষ্পত্তি বাবদ ট্রাম্পের তহবিলে আরও ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে। এর মধ্যে ফেসবুকের মাদার কোম্পানি মেটা, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), এবিসি এবং সিবিএস ব্রডকাস্টিংয়ের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণ অন্যতম। অবশ্য হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্ষতিপূরণের সিংহভাগ অর্থ ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি লাইব্রেরি নির্মাণ এবং ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার পার্কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকারী একটি অলাভজনক সংস্থায় দান করা হয়েছে। ফোর্বস সাময়িকীর শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ২০২৪ সালে ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৩০ কোটি ডলার, যা ২০২৬ সালে এসে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী তার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৬০ কোটি ডলার।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রধান হিসেবে ক্রিপ্টো-বান্ধব পল অ্যাটকিন্সকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল মুদ্রা খাতের নিয়মনীতি শিথিল হতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল সম্পদের প্রসার নিশ্চিত করতে ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’ (GENIUS Act) পাস করা হয়। ট্রাম্পের এই ৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক বিবরণীটি পূর্ববর্তী মার্কিন রাষ্ট্রপতিদের তুলনায় নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ, যা তার বহুমুখী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিস্তৃতিকেই নির্দেশ করে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026