খেলাধূলা ডেস্ক
বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয়েছিল প্রায় এক ঘণ্টা। তবে বৈরী আবহাওয়াও ঘরের মাঠে মেক্সিকোর জয়রথ থামাতে পারেনি। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো তাদের অনবদ্য ফুটবল প্রদর্শনী বজায় রেখে চলমান বৈশ্বিক আসরের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশ সময় আজ অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে তারা। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করল মেক্সিকানরা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক ফুটবলাররা ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। ম্যাচের ২২ মিনিটে মেক্সিকোকে প্রথম লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। চমৎকার এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ৩১ মিনিটে স্বাগতিকদের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ। প্রথমার্ধের এই দুই গোলের ওপর ভর করেই মেক্সিকো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর ব্যবধান কমানোর জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মেক্সিকান খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন ইকুয়েডরের পিয়েরো ইনকাপিয়ে। এ সময় নিয়মবহির্ভূত আচরণের কারণে ম্যাচ রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইকুয়েডর। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর দুর্দান্ত ফর্ম আরও একবার প্রমাণিত হলো। চলতি বছরে খেলা ১২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। এছাড়া নিজেদের সর্বশেষ টানা সাতটি ম্যাচেই তারা অপরাজিত ও জয়ী হিসেবে মাঠ ছেড়েছে। এই টুর্নামেন্টে রক্ষণভাগের অভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছে মেক্সিকানরা। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের পর মেক্সিকোই প্রথম দল, যারা কোনো গোল হজম না করে টানা চারটি ম্যাচে জয়লাভের অনন্য রেকর্ড গড়ল।
দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই ঐতিহাসিক জয় মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে ইংল্যান্ড ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের বিজয়ী দলটি। ঘরের মাঠের চেনা দর্শক ও আবহাওয়ার সুবিধা নিয়ে মেক্সিকো তাদের এই স্বপ্নের যাত্রা কতদূর নিয়ে যেতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।