ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে লাল কার্ডের কারণে দীর্ঘ সময় দশ জনের দল নিয়ে খেলতে হলেও আক্রমণাত্মক ফুটবল বজায় রেখে জয় তুলে নেয় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরা। এই জয়ের ফলে আগামী ৬ জুলাই সিয়াটলে টুর্নামেন্টের অন্যতম পরাশক্তি বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
সান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে বসনিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে মার্কিন ফরোয়ার্ডরা। তবে ম্যাচের একটি পর্যায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়কে। ফলে দশ জনের দলে পরিণত হয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, স্বাগতিকরা তাদের চেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে আসেনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মালিক টিলম্যান সতীর্থ স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের উদ্দেশ্যে একটি রক্ষণভেদী পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। বলটি বসনিয়ার দুজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলেও তা শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নেন বালোগান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজকে একা পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্রাইকার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে স্বাগতিকরা।
১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দশ জনের দল পাওয়ার সুবিধা নিয়ে তারা বেশ কিছু পাল্টা আক্রমণ তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোল করতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের সময় গড়ানোর সাথে সাথে বসনিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরণের তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা যায়, যার সুযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগায় মার্কিন দল।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে বসনিয়ার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে ফ্রি-কিক লাভ করে যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন প্রথমার্ধের গোলের অন্যতম কারিগর মালিক টিলম্যান। এই গোলের পর বসনিয়ার ম্যাচ ডাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পচেত্তিনোর দল।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একজন কম নিয়ে খেলে ২-০ গোলের জয় পাওয়া যেকোনো দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর রণকৌশল এবং মাঠের খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে রক্ষণভাগের কিছু দুর্বলতা দূর করতে হবে স্বাগতিকদের। আগামী ৬ জুলাই সিয়াটলের ম্যাচটি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের জন্যই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।