খেলাধূলা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অপরাজিত থাকা কেপ ভার্দে এই ম্যাচেও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করে। তবে শেষ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেরা জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের লড়াকু ফুটবল ও কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচটি জমে ওঠে। ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা প্রথম গোলটি করে এগিয়ে গেলেও কেপ ভার্দে নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত রাখে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের। ৩-২ ব্যবধানের এই জয়টি আর্জেন্টিনার জন্য সহজ ছিল না, যা ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের বক্তব্যেও উঠে এসেছে।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, “আমরা জানতাম ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে। কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে যেভাবে খেলেছে, তাতে তাদের শক্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল। ম্যাচের প্রথম গোলটি করতে পারাটাই ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমার্ধে লিড নেওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরে সহজ জয় পাব। কিন্তু কেপ ভার্দে মাঠে তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।”
নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর চিরন্তন চাপ ও রোমাঞ্চের কথা উল্লেখ করে ৩৯ বছর বয়সী এই প্লেমেকার আরও জানান, নকআউট পর্বে কোনো দলই কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না। ফুটবলীয় পরাশক্তি বা নামের দিক থেকে কোনো দলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে দলগুলোর শক্তির ব্যবধান অনেক কমে এসেছে এবং প্রতিটি ম্যাচই এখন সমান চ্যালেঞ্জিং। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বিশ্বমঞ্চের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে তোলে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চলতি টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার এই জয়টি কোয়ার্টার ফাইনালের পথকে সুগম করলেও দলের কিছু কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কেপ ভার্দে যেভাবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভেঙে দুটি গোল আদায় করে নিয়েছে, তা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে দলকে নতুন করে ভাবতে হবে। মায়ামির এই কঠিন ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ম্যাচের কৌশল সাজাতে চান ইন্টার মায়ামির এই তারকা ফরোয়ার্ড। তিনি জানান, দলের খেলোয়াড়রা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং ম্যাচটির ইতিবাচক দিকগুলো বিশ্লেষণ করা।
আগামী ৭ জুলাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেদিন তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মিশরের গতিশীল ফুটবল ও শারীরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে জয় পেতে হলে আর্জেন্টিনাকে রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠের সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।