বিনোদন ডেস্ক
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক ধানুশ নিজের শৈশব এবং জন্মদিনের স্মৃতি নিয়ে একটি মন্তব্য করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। নিজের ৪৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ভারতের চেন্নাইয়ে ভক্তদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার আগে পর্যন্ত তিনি নিজের জন্মদিনের তারিখ জানতেন না।
অনুষ্ঠানে ভক্ত ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় ধানুশ তাঁর শৈশবের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় স্কুলে সহপাঠীদের জন্মদিনে নতুন রঙিন পোশাক পরা এবং শিক্ষক ও বন্ধুদের চকোলেট বিতরণ করতে দেখে তাঁরও একই ইচ্ছা হতো। তবে পরিবারে তখন জন্ম তারিখ নিয়ে পৃথক উদযাপনের সুযোগ বা সচেতনতা ছিল না। পরবর্তীতে তাঁর বোনের মাধ্যমে তিনি নিজের জন্মদিনের কথা জানতে পারেন।
ধানুশ আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় তাঁদের নতুন পোশাক কেনা কেবল দীপাবলি ও পঙ্গল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বোনের বিশেষ অনুরাগে এবং নিজেদের সামান্য সঞ্চয় দিয়ে বাবা-মা তাঁকেও জন্মদিনে একটি রঙিন পোশাক ও কিছু চকোলেট কিনে দিয়েছিলেন। সেই প্রথম সহপাঠীদের মধ্যে চকোলেট বিতরণ করে তিনি আনন্দ পেয়েছিলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনের প্রতি তাঁর আগ্রহ কমে গেলেও ভক্তদের ভালোবাসায় তিনি গভীরভাবে অভিভূত।
এদিকে, ধানুশের এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন মাধ্যমে নতুন করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা শুরু হয়েছে। খ্যাতনামা তামিল চলচ্চিত্র পরিচালক কস্তুরী রাজার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত নিজের জন্মতারিখ না জানার দাবিটি কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর আগেও ‘ইডলি কাদাই’ চলচ্চিত্রের প্রচারণায় ধানুশ শৈশবে সামান্য আয়ের জন্য ফুল বিক্রি করার কথা বলেছিলেন, যা নিয়েও নেটিজেনদের মধ্যে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়। তবে ধানুশের অনুরাগী ও সমালোচকদের মতে, ১৯৯৫ সালের আগে তাঁর পরিবার বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জনের জন্য সংগ্রাম করছিল, যা তাঁর শৈশব স্মৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
পেশাগত দিক থেকে অভিনেতা ধানুশ বর্তমানে একাধিক নতুন চলচ্চিত্র প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি ‘ওএম অধ্যায় ১ – উধিরাম: দ্য ব্লাড উড’ এবং ‘থামিঝ মুরুগান’ শিরোনামের দুটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে তাঁর কাজের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।