সংগঠন সংবাদ ডেস্ক
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের উদ্ধার, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম বেগবান করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনাবলী প্রকাশ করা হয়, যা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এই ১০ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুরো কার্যক্রমটি সরাসরি তদারকি ও সমন্বয় করবেন বলে জানানো হয়েছে।
নির্দেশনাবলীতে বলা হয়েছে, বন্যার্ত সাধারণ মানুষকে অতি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে এবং একই সাথে তাদের গবাদি পশু রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উদ্ধারকাজ সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘রেসকিউ টিম’ বা উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির মূল দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে শুকনো ও রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ বিতরণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যেসব পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন, তাদের ফেলে আসা ঘরবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক কার্যক্রমে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি। বন্যা-পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে বন্যার পর টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকেও দুর্গত এলাকায় বিশেষ চিকিৎসাসেবা দিতে একটি কেন্দ্রীয় মেডিকেল টিম গঠন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দেশের এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংগঠনের এমন মানবিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হলেও, চলতি বছরের বন্যা পরিস্থিতি পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। ফলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীমূলক কার্যক্রম দুর্গত মানুষের সংকট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সমস্ত তথ্য ও অগ্রগতির বিবরণ নিয়মিতভাবে ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের একটি সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতা ও সমন্বয় বজায় থাকে।