নিজস্ব প্রতিবেদক
মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়া ও বন্যাজনিত কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের চলমান দুর্যোগে বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও দৃঢ়তার সাথে তদারকি করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত মানুষের পাশে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য তিনি বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় সরকারের চলমান ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ও চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া দুর্গত এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল সরাসরি বিতরণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষ প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একযোগে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের বাংলাদেশের যোগ্য কাণ্ডারি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ করে স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং গভীর দেশপ্রেম ধারণ করার আহ্বান জানান। তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্বাচিত সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। একই সাথে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।