বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহ্দী আমিন তাঁর বক্তব্যে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের মাধ্যমে একটি উন্নত ও আধুনিক নীতি কাঠামো গঠন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে ব্যবসা পরিচালনা করার সহজতা বা ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করা, যা দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন খাতের অর্জনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ কিছু দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। তবে এই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্যমাত্রা এবং পরিকল্পনাগুলো দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে এবং টেকসই উপায়ে বাস্তবায়ন করতে বেসরকারি খাতের ব্যাপক সমর্থন ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায় বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি খাত-চালিত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে এগিয়ে যাক।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোকপাত করে মুখপাত্র বলেন, কোনো একক সরকারের পক্ষে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সাফল্যের গল্প রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। সরকার চায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই ধারা বেসরকারি খাত থেকে সরকারি খাতের নীতি নির্ধারণে প্রতিফলিত হোক, যা একটি অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গঠনে সহায়তা করবে।
বাজেট ও দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ রূপকল্প এবং অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। সাম্প্রতিক নীতিমালায় নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনন্দিন খরচ ও সার্বিক দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আইসিসি বাংলাদেশের ৩১তম এই বার্ষিক কাউন্সিলে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী চেম্বারের নেতৃবৃন্দ এবং নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত থেকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারি খাতের নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে একটি মজবুত জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সুশীল সমাজ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সংস্কারমুখী অবস্থান এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনগুলোতে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।