স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশের গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী ও সুনিশ্চিত করতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আওতায় বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সাথে নতুন ১৩টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত ৮ জুলাই জারি করা এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সম্মতির পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং হাসপাতালগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জনবল সৃষ্টির (পদ সৃজন) প্রস্তাব দ্রুত পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন এই নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের তথ্য ও কাঠামোগত চাহিদার ভিত্তিতে প্রস্তাবনা তৈরির কাজ শুরু করবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে ৫০টি। ফলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে হাসপাতালগুলোকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরশীল। শয্যা সংকটের কারণে অনেক সময় জরুরি রোগীদের ভর্তি করা সম্ভব হয় না, যার ফলে সাধারণ মানুষকে দূর-দূরান্তে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। ৪৩১টি উপজেলায় শয্যা সংখ্যা ১০১-এ উন্নীত হলে তৃণমূল পর্যায়ে শয্যা সংকট অনেকাংশে দূর হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা, সামগ্রিক রোগী ভর্তি সুবিধা এবং জনস্বাস্থ্য সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বড় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।