1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সুন্দরবন মধু আহরণ মৌসুম উদ্বোধন: বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের অভিযোগ সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংসদে নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর সময় বরাদ্দ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শোতে শীর্ষে, আন্তর্জাতিক মুক্তি ৫২ প্রেক্ষাগৃহে ‘প্রিন্স’ সিনেমার ঈদমুখী মুক্তি পরিকল্পনায় ব্যর্থতা পাংশা মডেল থানায় নারীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল ৭ মে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি ও দক্ষতার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

চিরিরবন্দরে বন্যার্ত এলাকায় নেই ঈদের আমেজ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৭
  • ১৬৭ বার দেখা হয়েছে

মোহাম্মাদ মানিক হোসেন চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ
দিনাজপুরে চিরিরবন্দরে ঈদের আমেজ নেই বন্যাদুর্গত এলাকায়। দূর্গত মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এখন দিশেহারা । চারদিকে বিধবস্ত। বন্যায় হারিয়েছে ঘর-বাড়ি,হারিয়েছে ফসল। বিশুদ্ধ পানি আর একমুঠো খাবারের কষ্টে যেনো যায় যায় তাদের প্রাণ। এ অবস্থায় ঈদুল আযহার আমেজ নেই বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের। চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের দূর্গাডাঙ্গা গ্রামে দেখা গেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘর-বাড়ি এখনো তৈরি করতে না পারায় এভাবেই ফাঁকা জায়গায় নির্বাক হয়ে রয়েছেন তারা। বন্যায় তলিয়ে গেছে তার কষ্টার্জিত ফসল।

দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করা এ এলাকার বেশির ভাগ কৃষক কৃষি কাজের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি এনজিওর কাছে কড়া সুদে ঋণ নিয়ে কৃষি কাজে ব্যায় করে থাকেন। উৎপাদিত ফসল থেকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করেন এবং লভ্যাংশ দিয়ে পরিবার-পরিজন পরিচালনা করেন। কিন্তু চলমান বন্যা তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। কিন্তুকড়া সুদে ঋণ নিয়ে ২ বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগিয়েছিলেন আজগার আলী সবই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। এখন চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না তার। ২ মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার। এদের পেট ভরে দু’বেলা খেতে দিতে পারেন না। আর একদিনপরেই ঈদ। কিন্তু ঈদের আনন্দ নাই তার পরিবারে।

শুধু আজগার নয়, একই অবস্থায় আশপাশ গ্রামের অনেক পরিবার। এসব পরিবারে চলছে নীরব হাহাকার। সরজমিনে চিরিরবন্দর উপজেলার আরো কয়েকটি গ্রাম ঘুরে চোখে পড়ে একই চিত্র। সর্বত্রই বেঁচে থাকার লড়াই করে চলেছেন বানভাসিরা। ঈদ আসছে এটুকই জানেন তারা। এর বেশি কোনো অনুভূতি নেই তাদের। প্রতি বছর ঈদের আনন্দ তাদের ছুঁয়ে গেলেও এবার তা কেড়ে নিয়েছে বন্যায়। বন্যার পানি কমে গেলেও সংগ্রাম থামেনি তাদের। নতুন করে নিজের ঘর তৈরি করছেন অনেকে। ভিটেতে মাটি ভরাট করছেন। খাবার নেই। সবার একই অবস্থা। নিম্নবিত্তরা কাজের সন্ধানে নানা স্থানে ছুটলেও মধ্যবিত্তরা বেকায়দায়। অন্যান্য বারের মতো এবার কোরবানি দিতে পারছেন না তাদের অনেকেই।

চিরিরবন্দরের ফসলি জমির বেশী ভাগই তলিয়ে যায় বন্যায়। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েন এলাকার অসংখ্য কৃষক। পানি নেমে গেছে। কিন্তু ৯০ ভাগই ফসল নষ্ট হয়েছে এ এলাকায়। বন্যার পানিতেই তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। অনাহারে-অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন।
সাতনালা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, এরকম বন্যা আগে দেখেননি, লোকজন টিক মত খেতে পাচ্ছে না। ফসল সব বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। ঘর-দুয়ার নষ্ট হয়ে গেছে।
চিরিরবন্দরে বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়েন ৬৪ হাজার ৩৯০ জন কৃষক পরিবার।বন্যায় ১৮হাজার ১১৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও ৪৫ হেক্টর জমির শাকসবজি পানিতে নিমর্জিত হয়। ৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে কৃষকদের সামনে এখন অনিশ্চিত অন্ধকার। তারা সবকিছু হারিয়ে অনেকটা পথে বসার উপক্রম। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্তনাদ চলছে। তাই ঈদ হচ্ছে না তাদের কারোই। ক্ষতিগ্রস্থ বানভাসিদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনার কেউ নেই অভিযোগ করে বলেন। সবার মতো আমরাওঈদের আনন্দে শরিক চাই।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026