নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের অনিয়ম দূর করে একটি ন্যায়সংগত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সব ধরনের উৎস ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব তথ্য জানান। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ ছাড়াই সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এ বছর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি ছাত্রী অংশ নিচ্ছে, যা ছাত্র পরীক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় বেশি। শিক্ষাবিদদের মতে, নারী শিক্ষায় সরকারি উপবৃত্তি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অগ্রগতির ফলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের এই ধারাবাহিক সংখ্যাধিক্য দেখা যাচ্ছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার অসদুপায় রুখতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে যেসব প্রযুক্তিগত বা পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো রোধে বিশেষ নজরদারি সেল গঠন করা হয়েছে। একই সাথে আইন অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা এ সংক্রান্ত অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রশ্নপত্র পরিবহন এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় এই পাবলিক পরীক্ষাটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।