সারাদেশ ডেস্ক
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১১৮ জন। দেশে গত কয়েক মাস ধরে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় নতুন এই আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে হামের সংক্রমণ রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলেও আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হামরোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯৫১ জন। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৮ জনে। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬৭ জন। গত সাড়ে তিন মাসে দেশে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৩২ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার চিত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামজনিত জটিলতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ হাজার ৫০৯ জন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে আশার কথা হলো, যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৮২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে একজনের মৃত্যু হলেও ল্যাব নিশ্চিত হামে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ১৫ মার্চ থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী সন্দেহজনক হামে মোট ৬২৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে মারা গেছেন ৯৩ জন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের পুষ্টিহীনতা, যথাসময়ে টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে হামজনিত নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হওয়ায় মৃত্যুর হার বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের নির্দিষ্ট কিছু পকেট অঞ্চল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণসহ সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতা শতভাগ নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন।