1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক জুয়া কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দেশের ১৫৯ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের জুয়া আইন বাতিল করে যুগোপযোগী ও আধুনিক এই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হলো। একই সাথে আইনি জটিলতা এড়াতে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬’ সংসদে পাস করে পূর্বের আইনের একটি ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

গতকাল স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনের ১৯তম কার্যদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিতে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর পরপরই ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সেটিও কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। নবপ্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাস হওয়া জুয়া প্রতিরোধ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যমান ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট-১৮৬৭’ দেড় শতাধিক বছরেরও বেশি পুরোনো, যা বর্তমান ডিজিটাল মাধ্যমের অপরাধ দমনে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থ পাচার ও প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপতৎপরতা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করায় সরকার কঠোর সাজার বিধান রেখে এই বিশেষায়িত আইনটি প্রণয়ন করেছে।

নতুন এই আইনে অপরাধের ক্ষেত্রগুলোকে সুনির্দিষ্ট করতে ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’ (যেমন স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং), ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’ এবং ‘ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট’ বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত যেকোনো ধরনের জুয়াড়ি চক্রকে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন প্রণেতারা।

আইনের ধারা অনুযায়ী, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা করা, উত্তোলন বা রূপান্তর করা, বিদেশি কোনো অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের স্থানীয় প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ, গ্রুপ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং কোনো খেলা বা অনুষ্ঠানে জুয়াড়ি প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ বা পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচারকার্য দেশের সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এদিকে, নবপ্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইনের সাথে অন্যান্য আইনের কার্যকারিতার সংঘর্ষ বা ওভারল্যাপিং এড়াতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধনী আইন অনুযায়ী, মূল সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারাটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেখানে ইতিপূর্বে জুয়া সংক্রান্ত অপরাধের জন্য ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখতে পূর্বে সাইবার সুরক্ষা আইনে জুয়া সংক্রান্ত ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ডিজিটাল ও অফলাইন উভয় মাধ্যমের জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধগুলো আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন, সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত স্বতন্ত্র আইন কার্যকর করা হচ্ছে, তাই একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের জটিলতা নিরসন করতেই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে এই ধারাটি বিলুপ্ত করা হলো। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এই দুটি আইন পাসের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কিশোর ও তরুণ সমাজকে সর্বনাশা জুয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026