বাংলাদেশ ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন শেষে চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে সর্বশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শেষ হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিচালিত হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সর্বমোট ৭৯ হাজার ১০০ জন হাজি সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৪ হাজার ৬৪১ জন হাজি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
হজ অফিস ও বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তিন দেশের বিমান সংস্থা মোট ২১৬টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ১১৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করে ৩৪ হাজার ৫৬৭ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইন্স ৭০টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৩৭৭ জন এবং দেশটির অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১১ হাজার ৪৩ জন হাজিকে পরিবহন করেছে। এছাড়া অন্যান্য বিশেষায়িত ও নিয়মিত বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ৮ হাজার ১১৩ জন হাজি।
এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনায় গমনের জন্য প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই কার্যক্রম শেষ হয় ২১ মে। এরপর গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বা ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়, যা দীর্ঘ এক মাস পর গতকাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য সৌদি সরকার কর্তৃক মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনের হজ পালনের কোটা নির্ধারিত ছিল। কোটা পূর্ণ করে নিবন্ধিত হাজিদের একাংশ বিভিন্ন কারণে যাত্রা বাতিল বা বিলম্বিত করলেও, সার্বিকভাবে হজ ব্যবস্থাপনা পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় সন্তোষজনক ছিল বলে প্রশাসনিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয় এড়াতে বিমান সংস্থাগুলোর আগাম প্রস্তুতি এবং বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ সেবামূলক বুথ স্থাপনের ফলে হাজিদের ভোগান্তি অনেকটাই কম হয়েছে।
এদিকে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের হজ মৌসুমে পবিত্র মক্কা, মদিনা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানে অবস্থানকালীন সময়ে সর্বমোট ৫৫ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন এবং নারী ১৮ জন। মৃত হজযাত্রীদের নিয়ম অনুযায়ী সৌদি আরবেই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ফিরতি হজ ফ্লাইট শেষ হওয়ার পর এখন হজ অনুবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো চলতি বছরের সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে। ঢাকা ও জেদ্দার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই আগামী বছরের হজ নীতি ও কোটা বরাদ্দের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।