শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মান্থলি পে-অর্ডার (এমপিও) ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন এই হার কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বিদায়ী অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া বাস্তবায়নের পর, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ কার্যকর করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাস থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের বিপরীতে বর্ধিত হারে এই বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের কয়েক লাখ বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সে সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে দুই ধাপে এই বর্ধিত ভাতা বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা তৎকালীন সম্মতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা কয়েকটি শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে দুই দফায় বাড়ানো হবে। প্রথম ধাপে, ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা) বাড়িভাড়া কার্যকর করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে, আজ ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে ওই ৭.৫ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ৭.৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারিত হলো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সমহারে সুযোগ-সুবিধা এবং বাড়িভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই নতুন সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের দাবির আংশিক প্রতিফলন ঘটল। তবে এই প্রক্রিয়াটি সরকারের বাজেট বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল যাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়।
শিক্ষা খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি শিক্ষকদের এই বর্ধিত বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর করার সিদ্ধান্তটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষকেরা পেশাগত কাজে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। একই সাথে এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে এবং নতুন মেধা আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।
আজ থেকে কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত ভাতার ফলে সরকারের শিক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটে যুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার নিয়মিত সরকারি অংশের (এমপিও) সাথে এই বর্ধিত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।