1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
গাঁজা আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ওসি প্রত্যাহার গণতন্ত্র সুসংহতকরণ ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্যবসা থেকে ট্রাম্পের শত কোটি ডলার আয়, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার হোয়াইট হাউজের ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার মেক্সিকোকে নকআউটের টিকিট এনে দিল কিনিয়োনেস ও জিমেনেজ ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ মুন্সীগঞ্জে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের বিল পাসের উদ্যোগ, লেবাননে অবস্থান জোরদারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর নকআউটের দীর্ঘদিনের খরা কাটাল ব্রাজিল জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের নির্দেশ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার ছয় দিন পর লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আজ বুধবার (১ জুলাই) দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান এবং বর্তমানে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

লা গুয়াইরা রাজ্যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করেন। নিবিড় ও সতর্ক প্রক্রিয়ায় পাথর এবং কংক্রিটের চাঁই সরিয়ে শিশু ক্লিবারকে টেনে বের করে আনা হয়। ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ এই উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে জানান, দুর্যোগের ছয় দিন পর এ ধরনের উদ্ধার তৎপরতার সাফল্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। দেশটির সরকার ক্লিবারের উদ্ধারকে এই সংকটের মুহূর্তে বড় একটি আশার আলো হিসেবে দেখছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা স্বর্ণালী সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পানি ও পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে ধসে পড়া কাঠামোর নিচে আটকে পড়া মানুষের জীবিত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর প্রতি মুহূর্তে জীবিত উদ্ধারের হার জ্যামিতিক হারে কমতে শুরু করে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে গোল্ডেন আওয়ার পার হওয়ার পরও প্রায় ১৪৪ ঘণ্টা পর তিন বছরের একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত বিরল ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

এদিকে গত সপ্তাহে লা গুয়াইরাসহ ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪৩ জনে। এ ছাড়া ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভূমিকম্পের ফলে দেশটিতে ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটির অবর্ণনীয় সংকটের চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। বিশ্বসংস্থাটির মতে, ভেনেজুয়েলায় এই মুহূর্তে হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব উদ্যোগে উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করলেও সেখানে তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্যোগের কারণে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগের মতো মৌলিক সেবা এবং অবকাঠামোগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের সার্বিক সুরক্ষা, মৌলিক ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জরুরিভিত্তিতে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে যে, দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোতে সরকারি উদ্যোগে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। একদিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত অথবা মৃত ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ধ্বংসস্তূপের সামনে দিন গুনছেন হাজারো মানুষ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026