বিশেষ প্রতিবেদক
সারাদেশে উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড বিতরণের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪১ জন নাগরিকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে পাঠানো মোট কার্ডের ৮৪ দশমিক ০৪ শতাংশ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট নাগরিকদের কার্ড পর্যায়ক্রমে বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইসির এনআইডি শাখা সূত্রে জানা গেছে, মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে মোট ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮ জনের স্মার্টকার্ড পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে ৭ কোটি ৩৬ লাখের বেশি নাগরিকের হাতে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার ৪৫৭টি স্মার্টকার্ড বিতরণের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় শতভাগ বিতরণ সম্পন্ন হলেও কিছু কিছু উপজেলা ও থানায় এখনো এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ১৫টি জেলার সবকটি উপজেলায় স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলাগুলো হলো— ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর। তবে দেশের মোট ৪০৪টি নির্বাচনী থানা ও উপজেলার মধ্যে ১১৫টিতে এখনও স্মার্টকার্ড বিতরণের মূল কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এসব এলাকায় দ্রুত বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে মোট ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ভোটার তালিকার প্রায় সাড়ে ৫ কোটি নাগরিক এখনো উন্নত মানের এই স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতার বাইরে রয়েছেন। সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত সব নাগরিককে পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় শতাধিক সেবামূলক কার্যক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় নাগরিকদের জন্য এই স্মার্টকার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাত, পাসপোর্ট তৈরি, মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই কার্ডের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে সাড়ে ৫ কোটিরও বেশি নাগরিক এখনো এই সুবিধার বাইরে থাকায় এবং বেশ কিছু উপজেলায় বিতরণ শুরু না হওয়ায় সামগ্রিক ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফরাসি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর ইসি নিজস্ব অর্থায়নে এবং দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এই স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের উদ্যোগ নেয়। কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং মুদ্রণ যন্ত্রের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে কার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় এখনো বিতরণ শুরু হয়নি, সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। আগামীতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নতুন নাগরিকদেরও এই স্মার্টকার্ডের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।