অর্থনীতি প্রতিবেদক
দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম আরও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) মূল্যহ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরী বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের দরপতনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই সমন্বয় করা হয়েছে। দেশের জুয়েলারি শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভোক্তা পর্যায়ে সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতেই নিয়মিত বিরতিতে এই দর পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাট ও নির্মাণ মজুরিসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ফলে এক ধাক্কায় ভালো মানের সোনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।
অন্যান্য মানের সোনার ক্ষেত্রেও একই হারে দর সংশোধন করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, যা আগে আরও বেশি ছিল। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হবে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রূপার মূল্যেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপা ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপা এখন থেকে ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যবান ধাতুর দামে অস্থিরতা বজায় রয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে। স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে পাকা সোনার সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং দর কমে আসায় জুয়েলার্স মালিকদের সংগঠন বাজুস এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগেও কয়েক দফায় সোনার বাজারদর ওঠানামা করেছে। তবে একবারে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা দরপতনের কারণে সার্বিক খুচরা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ বাড়বে, যা স্থবির হয়ে থাকা জুয়েলারি ব্যবসায় নতুন গতি ফেরাতে সহায়ক হবে। বাজারে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী সোনা ও রূপা বেচাকেনা চলমান থাকবে।