স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ভাইরাসজনিত এই রোগে আক্রান্ত ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন শিশু। সোমবার (২৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংক্রামক ব্যাধি পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত বিশ্লেষণ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তর জানায়, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জন শিশুর। অন্যদিকে, রোগটির ক্লিনিক্যাল উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৭১৫ জন।
একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৯৪ জনে। পাশাপাশি রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে এসেছে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জন শিশু। এর মধ্যে তীব্র উপসর্গ থাকায় ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে প্রতিষেধক টিকাদান নিশ্চিত না করা এবং প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশের পর চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় টিকাদানের হার কম থাকা এবং অপুষ্টির শিকার শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে।
রোগতত্ত্ববিদদের মতে, চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি (মপ-আপ ক্যাম্পেইন) জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগের বিস্তার রোধে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।