নিজস্ব প্রতিবেদক
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি কার্যকর হয় বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার বলেন, “সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে দাখিল করেছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছি।”
সংবিধানের বিধান তুলে ধরে তিনি আরও জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দ্রুত পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ ও পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্পিকার জানান, মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন, যা রাষ্ট্রপ্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন যে, স্বাস্থ্যগত এই জরুরি পরিস্থিতির বিবরণ সংবলিত পত্রটি গ্রহণের পর এ বিষয়ে আইনগত বা রাজনৈতিকভাবে অন্য কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ, অভিশংসন কিংবা শারীরিক অসামর্থ্যের কারণে পদ শূন্য হলে স্পিকারের ওপর রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব বর্তায়। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, শূন্য পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। জাতীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর এখন নিয়মানুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।