শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। বঙ্গভবন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে পদত্যাগপত্রটি ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানাতে বিকেল ৫টার পর সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংগৃহীত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। পূর্বে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সাম্প্রতিক চিকিৎসাগত পরীক্ষায় তাঁর দেহে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি জটিল রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই কিছু সময়ের জন্য সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি আরও ব্যক্ত করেন, এসব জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদের মতো দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর দীর্ঘমেয়াদী এবং নিবিড় চিকিৎসা প্রয়োজন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে সৃষ্ট এই শূন্যতা পূরণে পরবর্তীতে সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।