বিশেষ প্রতিবেদক
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালার (পিপিআর) আলোকে দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) নীতিগত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিধান অনুসরণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ১৫টি প্রস্তাব সিসিইএর বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে আগেই পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত বৈঠকে প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত উত্থাপিত হয়নি।
প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে উদ্ভূত বিশ্ব ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে দরপ্রস্তাব পর্যালোচনা ও দর-কষাকষির পর বিপিসি সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনায় নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মোট ১৫টি প্রস্তাবের আওতায় এই ডিজেল ক্রয়ের কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ১ লাখ ২৫ হাজার টন, একটিতে ৫০ হাজার টন এবং অবশিষ্ট ১৩টি প্রস্তাবের প্রতিটিতে ১ লাখ টন করে ডিজেল আমদানির রূপরেখা তৈরি করা হয়। ওমান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, কাজাখস্তান ও চীন কেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এসব তেল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আমদানি করা ডিজেলের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হবে বিল অব লেডিংয়ের তারিখে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটস (আরব গালফ) দর ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ভিত্তিতে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত চূড়ান্ত ব্যয়ে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয়ের প্রস্তাবটি ওমানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের, যেখানে ৫০ হাজার টন ডিজেলের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর বৃহত্তম প্রস্তাবটি ১ লাখ ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির, যার আনুমানিক ব্যয় ১ হাজার ১৭০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত ব্যয় ৯৩৬ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নীতিগত অনুমোদন গ্রহণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জরুরি প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে প্রয়োজনে ডিজিটাল বা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমেও এই প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করা হতে পারে। অনুমোদনের পর বিপিসি পরবর্তী প্রশাসনিক ও অর্থসংস্থানসংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবে।