রাজধানী ডেস্ক
২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক চার্জ বা অভিযোগপত্র আগামী ২৭ জুলাই দাখিল করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রসিকিউশন টিমের মতে, দীর্ঘ তদন্ত এবং তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় নির্ধারিত তারিখে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ শুরু করে। তৎকালীন সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতজুড়ে ওই সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের পর থেকে গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উঠতে থাকে। নিহত ও আহতদের স্বজন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়ে আসছিল।
আদালত সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের ঘটনায় সংঘটিত অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত নির্দেশাতা চিহ্নিতকরণ এবং মূল আসামিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চালিয়ে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত চার্জ গঠনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের এজলাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এই চার্জ দাখিলের মাধ্যমে শাপলা চত্বরের ঘটনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিলের পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি, শুনানি এবং অভিযোগ গঠনের পর মূল বিচার কাজ শুরু হবে। এটি দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ইতিহাসে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।