অর্থনীতি প্রতিবেদক
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে একটি অন্যতম আকর্ষণীয় ও নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্পায়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিদেশি মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধিকে অন্যতম মৌলিক অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, কাঠামোগত রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির স্বার্থে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বাত্মক সুশাসন ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ভূমিকা অপরিসীম। দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে দেশি ও বিদেশি উভয় খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, দ্রুত সেবা প্রদান, ব্যবসায়িক খরচ কমানো এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। বৈশ্বিক শিল্পোদ্যোক্তারা যেন বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিশ্চিন্তে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ব্যবসা করার প্রক্রিয়াকে অধিকতর সহজ ও লাভজনক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মূল অনুষ্ঠানে আলোচনার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন চত্বরে আয়োজিত ‘ইনভেস্টরস এক্সপো’ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন করেন। সেখানে অংশ নেওয়া দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি প্রদর্শনীতে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ভবিষ্যত প্রসার পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির হস্তান্তর বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাসংক্রান্ত তাদের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান সম্ভাবনা এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যেসব পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজতর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি ও বক্তারা দেশের তরুণ মানবসম্পদ, সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিকাশমান অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন বিদেশি মূলধন আকর্ষণে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যগণ বাংলাদেশের শিল্প সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পূর্ণ সুবিধা লাভ করতে শুল্ক কাঠামোর উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধানের সরাসরি এই প্রত্যয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেওয়া আশ্বাস আন্তর্জাতিক ব্যবসা মহলে ইতিবাচক বার্তা প্রদান করবে। পর্যাপ্ত বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হলে তা কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেই ভূমিকা রাখবে না, বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নীতিগত নিশ্চয়তা ও কার্যকর অংশীদারত্বের যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।