বিনোদন ডেস্ক
ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আয়েশা খান। বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে মুম্বাইয়ের দাদারে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে ভারতে শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে আন্দোলন শুরু হয়। রাজধানীতে সূচিত এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে মুম্বাইয়ের দাদারে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নিতে গিয়েই আটক হন অভিনেত্রী আয়েশা খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দাদারে নির্ধারিত কর্মসূচিস্থলে পৌঁছানোর পর কোনো প্রকার মিছিল বা উসকানিমূলক কার্যক্রম শুরু করার আগেই পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়। আয়েশা খানের অভিযোগ, তিনি এবং তার দুই নারী সহকর্মী রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। সে সময় কোনো স্লোগান বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন না করা সত্ত্বেও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক টহল ভ্যানে তুলে নেয়। একই সঙ্গে তার ভাই ও অন্যান্য পুরুষ সঙ্গীদেরও আটক করা হয়।
আটকের পর তাদেরকে স্থানান্তরিত করে মুম্বাইয়ের ওরলি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ও জমায়েত রোধ করতে পুলিশ বিভিন্ন থানায় আটক ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখে। পুলিশি হেফাজতে তাদের সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার করা না হলেও, আটকের সময়ের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
আটকের প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আয়েশা খানকে মুক্তি দেয় ওরলি থানা পুলিশ। প্রাথমিক মুক্তির পর তিনি আটক হওয়া অন্যান্য সঙ্গীদের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে অন্য থানাগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ভারতে শিক্ষার্থীদের এই চলমান আন্দোলনের সমর্থনে দেশটির বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সোচ্চার হয়েছেন। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে আয়োজিত নাগরিক প্রতিবাদগুলোতে ইতোমধ্যেই অংশ নিয়েছেন শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, রত্না পাঠক শাহ এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো জ্যেষ্ঠ শিল্পীরা। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে আয়েশা খানকে আটকের এই ঘটনাটিকে ঘিরে বর্তমানে ভারতজুড়ে শিল্পী সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল জমায়েত এড়ানোর যুক্তি দেওয়া হলেও, বিনা উসকানিতে আটকের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।