1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
উদীয়মান বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ান ও টিএসির সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ পানিসম্পদ মন্ত্রীর মার্কিন নতুন শুল্কে বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী কুনমিং-চট্টগ্রাম সড়ক সংযোগ ও ফ্রি শিশু হৃদরোগ চিকিৎসা শিবিরের সমাপনী মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,১৩৭ কাকরাইলে ঢাকা জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদ স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানি না: স্পিকার

যুক্তরাজ্যে এআই নীতি জোরদারে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি, দায়িত্বে কণিষ্ক নারায়ণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্য সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল নীতিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ‘এআই মন্ত্রী’র পদ সৃষ্টি করেছে। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নামের ঘোষিত মন্ত্রিসভায় এ দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) কণিষ্ক নারায়ণ। সোমবার প্রকাশিত নতুন মন্ত্রিসভার তালিকায় পদটিকে ক্যাবিনেট মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরকে সরকারের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নবনিযুক্ত ক্যাবিনেট মন্ত্রী কণিষ্ক নারায়ণ এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী সরকারের অধীনে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ‘এআই ও অনলাইন নিরাপত্তা’ বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ওয়েলসের ভেল অব গ্ল্যামারগন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে হাউস অব কমন্সে প্রবেশের নজির স্থাপন করেন এই লেবার রাজনীতিক।

ভারতের বিহারে জন্মগ্রহণকারী কণিষ্ক নারায়ণ শৈশবেই পরিবারের সাথে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে পাড়ি জমান। শিক্ষাজীবনে তিনি ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি (পিপিই) বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি নীতি গবেষণা এবং সামাজিক উদ্যোগে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন। ২০১২ সালে দক্ষিণ ওয়েলসের তরুণদের শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে তিনি ‘অ্যাটেইন ওয়েলস’ নামের একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি অর্থনীতি ও জনসেবা সংস্কার বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এছাড়া করোনা মহামারির সময়ে স্থানীয় ব্যবসা রক্ষায় ‘হেল্প ইয়োর হাই স্ট্রিট’ প্রচারণা, সিটিজেনস অ্যাডভাইস ব্যুরোর ট্রাস্টি, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের পরামর্শক প্যানেল এবং ‘সেন্টার ফর সিটিজ’-এর ভিজিটিং অ্যাসোসিয়েট হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের পর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে প্রযুক্তি বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রীর পদে আনা হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম তার মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু রদবদল আনলেও প্রযুক্তি খাতে ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং এআই নীতিকে আরও জোরদার করতে কণিষ্ক নারায়ণের কাজের পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাকে সরাসরি ক্যাবিনেট পদমর্যাদা প্রদান করেছেন।

কণিষ্ক নারায়ণের এই পদোন্নতির সাথে সাথে বার্নাম সরকার প্রশাসনিক রূপরেখাতেও ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাণিজ্য ও ব্যবসা মন্ত্রণালয়ের সাথে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে জোনাথন রেনল্ডসের অধীনে ‘বিজনেস, ইনোভেশন, সায়েন্স অ্যান্ড ট্রেড’ নামক একটি সমন্বিত মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে। একই সাথে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একচ্ছত্র পরিধি বাড়িয়ে তার মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর ও অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নেতৃত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের এই প্রশাসনিক পুনর্গঠন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে গুগলের বিশ্বখ্যাত এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপমাইন্ড’ ছাড়াও ‘ইলেভেনল্যাবস’ ও ‘ওয়েভ’-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের বড় কেন্দ্র ও দক্ষ প্রকৌশলীদের শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। তবে দেশটির উচ্চ বিদ্যুৎ ব্যয় এবং আইনি জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা ধীরগতির হওয়ার পাশাপাশি আগের সরকারের প্রযুক্তিনীতি নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। নতুন এআই মন্ত্রীর অধীনে যুক্তরাজ্য সরকার সেই বাধা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক এআই প্রযুক্তির বাজারে নিজেদের অবস্থান কতটা সুসংহত করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026