1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
উদীয়মান বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ান ও টিএসির সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ পানিসম্পদ মন্ত্রীর মার্কিন নতুন শুল্কে বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী কুনমিং-চট্টগ্রাম সড়ক সংযোগ ও ফ্রি শিশু হৃদরোগ চিকিৎসা শিবিরের সমাপনী মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,১৩৭ কাকরাইলে ঢাকা জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদ স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানি না: স্পিকার

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪৭ বিলিয়ন ডলার, ২০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়ে সার্বিক রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি জুলাই মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন ১৮০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। বৈদেশিক মুদ্রার আগমনের এই গতি বহিস্থ খাতের চাপ কমাতে এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আন্তর্জাতিক পরিমাপে প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। তবে বিভিন্ন তহবিলের দায় ও স্থিতি বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রস্তুত করা হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের চিত্রে ভিন্নতা রয়েছে। আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাব করলে বর্তমানে দেশের প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৭৭০ দশমিক ০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি এবং প্রথাগত মোট রিজার্ভের মধ্যে মূল পার্থক্য তৈরি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে প্রদত্ত ঋণ এবং শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া সোয়াপ সুবিধার অর্থ মূল হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার কারণে। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী কেবলমাত্র অলস বা তাৎক্ষণিকভাবে দায় পরিশোধে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রাকেই বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভ হিসেবে দেখানো হয়।

এদিকে চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশে আসার হার ছিল বেশ চাঙ্গা। জুলাইয়ের প্রথম ২০ দিনে আসা ১৮০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স ব্যাংকভিত্তিক বিভাজনে দেখা যায়, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই সিংহভাগ অর্থ দেশে এসেছে। তথ্য মতে, আলোচিত সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ১২৬ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে ২৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং বাংলাদেশে সক্রিয় থাকা বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। সাধারণত একটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম তিন মাসের আন্তর্জাতিক আমদানি ব্যয় পরিশোধের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থাকা আবশ্যক। বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ দিয়ে আগামী কয়েক মাসের অপরিহার্য পণ্য, জ্বালানি ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পাওনা অনায়াসে মিটানো সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে নানা ধরণের প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানো রোধে নেওয়া পদক্ষেপসমূহের কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিজার্ভ শক্তিশালী থাকার কারণে দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর সৃষ্টি হওয়া অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে এবং আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি যখন বিশ্ববাজারের মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন প্রবাসীদের পাঠানো আয় ও রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026