বাংলাদেশ ডেস্ক
লালমনিরহাটকে মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলাজুড়ে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গত রবিবার (৫ জুলাই) দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আটককৃতদের একটি বড় অংশই লালমনিরহাটের বাইরের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের চইলতার তল এলাকায় প্রথম অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনজনকে মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে একই দিনে জেলার মোগলহাট ও কুলাঘাটসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়। মাদক কেনাবেচা ও সেবনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযান শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, লালমনিরহাটের সামাজিক পরিবেশ রক্ষা এবং যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা থেকে দূরে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহিরাগত কিংবা স্থানীয়—মাদক চক্রের সাথে জড়িত কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কেবল মাদকই নয়, পর্যায়ক্রমে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দুর্নীতির মতো অন্যান্য সামাজিক ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধেও তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ১৫ জন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, এই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত শনিবার বিকেলে লালমনিরহাটে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সংগঠনের উদ্বোধন করেছিলেন। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও সংগঠনের কর্মীদের সাথে নিয়ে স্বয়ং মন্ত্রী মাঠে নামায় জেলার সচেতন নাগরিক মহল এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন, নিয়মিত এমন তদারকি বজায় থাকলে জেলাটিতে অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।