নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশু গ্রন্থাগার (বাংলাদেশ চিলড্রেনস লাইব্রেরি) নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে জোরালো আশ্বাস দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তথ্যটি আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতের শুরুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে তার সফল কর্মকাল কামনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালের সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০০৫ সালে টোকিওতে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বৃদ্ধিরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০০৫ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিকে যুগোপযোগী করে নবায়নের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার নির্মাণের অগ্রগতি। ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রসঙ্গ তুলে সংস্কৃতিমন্ত্রী এই উদ্যোগের জন্য স্থপতি তাদাও আন্দো ও জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রন্থাগার বাংলাদেশ ও জাপানের গভীর বন্ধুত্বের স্থায়ী প্রতীক হয়ে শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে তিনি প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে জাপান দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও চারুকলার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জাপানের নিয়মিত অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি ও শিল্পী বিনিময় এবং গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
দ্বিপাক্ষিক এই সৌজন্য সাক্ষাতে সংস্কৃতিবিষয়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শুভেচ্ছা উপহার ও স্মারক ক্রেস্ট বিনিময় করেন।