জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে তিনি মহড়ার বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সরকারপ্রধান মাঠপর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কৌশলগত প্রস্তুতি ও মহড়ার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন।
মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (ভার্বাল অর্ডার) মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তিনি আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের আধুনিক ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেনা বাঙ্কারে প্রবেশ করে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সাথে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। একই সাথে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক ফিল্ড রেশনের খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে চা চক্রে মিলিত হন। মাঠপর্যায়ে সরকারপ্রধানের এই উপস্থিতি ও দীর্ঘ সময় অবস্থান সাধারণ সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের নিবিড় পরিদর্শনের ঘটনা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
পরবর্তীতে উপস্থিত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের আপামর জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট নিরসন এবং দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, সুদৃঢ় শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক মানের একটি বাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ধরনের নিয়মিত মহড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে সেনা সদর সূত্রে জানা গেছে।