নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবন থেকে পরিচালিত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জরুরি সেবা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন ছাড়া অন্য কোনো ক্যাটাগরির সংশোধনের আবেদন এই ইনস্টিটিউটে গ্রহণ বা নিষ্পত্তি করা হবে না। একই সঙ্গে অনলাইন মাধ্যমে আবেদনযোগ্য কোনো বিষয়ের হার্ডকপি সরাসরি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বহাল থাকবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
ইসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোকে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এর ফলে ভোগান্তি কমাতে এবং কাজের গতিশীলতা বাড়াতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে।
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ‘ক-১’ ক্যাটাগরির এনআইডি সংশোধন আবেদনসমূহ নিষ্পত্তি করবেন সংশ্লিষ্ট সহকারী থানা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। আর ‘ক’ ক্যাটাগরির আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর।
অন্যদিকে, ‘খ-১’ ক্যাটাগরির আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ‘খ’ ক্যাটাগরির আবেদনসমূহ সরাসরি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্তরে নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া, তুলনামূলক জটিল বা ‘গ-১’ ক্যাটাগরির আবেদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের এবং ‘গ’ ক্যাটাগরির সংশোধন সংক্রান্ত আবেদনসমূহ নিষ্পত্তি করবেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।
এর আগে ঢাকা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘ক-১’, ‘ক’, ‘খ-১’ ও ‘খ’ ক্যাটাগরির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জরুরি আবেদনসমূহ সরাসরি গ্রহণ ও দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করে আসছিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের এনআইডি কার্ডের ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য এই কেন্দ্রটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিআই ভবনে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এনআইডি কার্ডের নাম, বয়স বা পিতা-মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরি রয়েছে, যা সাধারণত মহাপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা সম্পন্ন করেন, সেটি আগের নিয়মেই ইটিআই ভবন বা প্রধান কার্যালয় থেকে তদারকি করা হবে।
হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় জরুরি সেবা বন্ধের এই সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে সাধারণ নাগরিকদের কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করায় দীর্ঘমেয়াদে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং স্বচ্ছ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া অনলাইনে আবেদনের বাধ্যবাধকতার ফলে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং গ্রাহক হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।