বিশেষ প্রতিবেদক
১৮ জুলাইকে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের গণ-আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উপলক্ষে আগামী ১৮ জুলাই রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে একটি বড় ধরনের প্রতিবাদী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ১৮ জুলাই ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেদিন বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হামলায় চারজন শিক্ষার্থী শহীদ হন। এই ঘটনাটি চলমান গণ-আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং স্বৈরাচার বিরোধী চেতনাকে বেগবান করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলার তীব্রতা ছিল নজিরবিহীন। সেই দিনের সেই নৃশংসতাকে স্মরণ করতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সত্য তুলে ধরতে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এই প্রদর্শনীর সম্ভাব্য নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’। বাংলাদেশ চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সমুখভাগ অথবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে এই প্রদর্শনীটি আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ২৪ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় শুরু হওয়া তীব্র প্রতিরোধে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ, সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টানা কয়েক দিন ধরে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। তৎকালীন সরকারের নির্দেশে ওই এলাকায় চালানো অভিযানে কমপক্ষে ৮০ জন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী শহীদ হন।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও রাষ্ট্রীয় স্মারক দিবস ঘোষণার পরিকল্পনা করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তরুণ সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে রাষ্ট্রীয় নথিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। আর্মি স্টেডিয়ামের সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।