1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

খেলাপি ঋণ কমাতে সুদ মওকুফের বড় সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ঋণখেলাপিদের জন্য বড় ধরনের সুদ মওকুফের সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের আরোপিত (চার্জড) ও অনারোপিত (আনচার্জড) উভয় ধরনের সুদ মওকুফের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে সুদ মওকুফের পূর্বে তহবিল খরচ বা ফান্ডের ব্যয় আদায়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, তা শিথিল করা হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদ হিসাবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ জমা রয়েছে। মন্দ ঋণ অবলোপন বা চিরতরে মুছে ফেলে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট সচল রাখা এবং খেলাপিদের ঋণমুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিতে এই নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যারা বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পেয়েছেন, তারাও এই সুদ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। নতুন এই সার্কুলারের আওতায়, খেলাপিরা কেবল ঋণের আসল বা প্রিন্সিপাল টাকা পরিশোধ করে এককালীন নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকগুলো যদি স্থগিত সুদ হিসাব থেকে ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ মওকুফ করে, তবে মোট খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের রেকর্ড ৩০.৬০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশে নেমে আসবে। উল্লেখ্য, স্থগিত সুদ হিসাব হলো ব্যাংকগুলোর একটি সাময়িক হিসাব বা হোল্ডিং অ্যাকাউন্ট, যা পাওনা কিন্তু এখনো অর্জিত আয় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি—এমন সুদ নথিভুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের পর কিস্তি পরিশোধ বন্ধ করে দেন, তখন সেই ঋণটি খেলাপি ঋণ বা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। ব্যাংক তখন এই ঋণের অনাদায়ী সুদকে মুনাফা হিসেবে দেখানো বন্ধ করে একটি ‘স্থগিত সুদ হিসাবে’ জমা রাখে।

এই সার্কুলার জারির আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে আসল ও সুদ মওকুফ—উভয় বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও ব্যাংকগুলো আসল ঋণ মওকুফের তীব্র বিরোধিতা করে। কারণ এটি ব্যাংক কোম্পানি আইনের পরিপন্থী। তবে স্থগিত বা সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে থাকা সুদ মওকুফের বিকল্পটি তারা মেনে নেয়, যেহেতু এই অর্থ ব্যাংকের মূল আয়ে যোগ করা হয়নি।

ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত ও চাপের কারণে খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন বিকল্প নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খুব শিগগিরই একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে এবং এর আগেই যেকোনো উপায়ে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনতে চাইছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিল করা ঋণ ও অবলোপন করা ঋণসহ দেশের মোট ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০.৮৭ লাখ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, আমানতকারীদের টাকা ক্ষমা করার অধিকার কারও নেই। টাকার আসল মালিক আমানতকারীরা, তারা এই ঋণ মাফ করেননি। এর ফলে ভালো গ্রাহকেরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং ঋণখেলাপিরা আরও বেশি সুবিধা পাওয়ার আশায় ঋণ পরিশোধ বন্ধ রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমি) আলী বলেন, ব্যাংকগুলো যদি ইতোমধ্যে আয় হিসেবে বুক করা সুদ মওকুফ করে, তবে আগামী বছরগুলোতে তাদের এই বড় ক্ষতি মেনে নিতে হবে। বড় বড় মন্দ ঋণের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ সুদ মওকুফ করা হলে ব্যাংকগুলোর আয় এবং মূলধন পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা প্রকারান্তরে আমানতকারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে এই সুদ আয়ের ওপর কর পরিশোধ করেছে। এখন এই মওকুফকৃত সুদের বিপরীতে ব্যাংকগুলো কোনো কর সুবিধা বা সমন্বয় পাবে কিনা তা এখনো অস্পষ্ট।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ এবং ২০২৫ এই দুই বছরেই ব্যাংকগুলো ২.৫৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে, যার প্রায় ৪০ শতাংশই আবারও খেলাপি হয়ে গেছে। সংকটাপন্ন কোম্পানিগুলোর কাঠামোগত ও মূলধনী সমস্যার সমাধান না করে বারবার পুনঃতফসিল করার কারণেই এই নীতি ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026