বিশেষ প্রতিবেদক
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী আশানুরূপ ফলাফল না পেলে ট্যাবুলেশন শিট দেখার পাশাপাশি নিজেদের উত্তরপত্র বা পরীক্ষার খাতাও সরাসরি যাচাই করার সুযোগ পাবেন। পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর সার্বিক প্রস্তুতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে অনেক সময় নানামুখী সংশয় বা অসন্তুষ্টি তৈরি হয়। বর্তমান নিয়মে কেবল প্রাপ্ত নম্বরের পুনঃগণনা বা খাতা পুনঃনিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল প্রত্যাশিত না হলে ট্যাবুলেশন শিটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের উত্তরপত্র খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবে। এর ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষকদের যেমন আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি পরীক্ষার্থীদের মাঝেও উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ক্ষোভ থাকবে না। শিক্ষা খাতকে আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ যেকোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অসত্য সংবাদ ছড়ালে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইবার অপরাধ দমন শাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখছে। কোনো চক্র যাতে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোতে যেন কোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই পাবলিক পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।