নিজস্ব প্রতিবেদক
তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে মেগা প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। আজ শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি দিক উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কাজের সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন। সুনিয়ন্ত্রিত বাঁধ নির্মাণ এবং পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার অধিবাসীদের স্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল প্রকল্পটির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরিতে নিয়োজিত আছেন। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নদী অববাহিকার দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল স্থানীয় সংকটের সমাধান নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে কয়েক বছর সময় লাগলেও এর সুফল ভোগ করবে সমগ্র দেশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ব্যাপক কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হবে এবং উন্নত কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ৫টি জেলার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা দূর হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই মহাপরিকল্পনা কেবল নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শুষ্ক মৌসুমে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার স্থায়ী ব্যবস্থাও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে খরা মৌসুমেও এই অঞ্চলের কৃষি কাজে পানির সংকট দূর করা সম্ভব হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় এই অঞ্চলকে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক জোনে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতবিনিময় সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন। এর আগে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তিস্তা মেগা প্রকল্পের কারিগরি ও প্রকৌশলগত দিক নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় মিলিত হন।
তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এমপি, রোকন উদ্দিন বাবুল এমপি এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।