আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের বুয়েরগেনস্টক পর্বতশৃঙ্গ রিসোর্টে একটি প্রাথমিক আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চুক্তিটি কার্যকরের বিষয়ে রূপরেখা তৈরিতে আগামীকাল দুই দেশের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
সুইস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই ‘প্রাথমিক আলোচনা’র আয়োজন করা হয়েছে। এই সংলাপে মূল দুই পক্ষ ছাড়াও মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। লুসার্নের নিকটবর্তী বুয়েরগেনস্টক পাহাড়ি রিসোর্টে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা হ্রাসে এই সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর আগে সুইজারল্যান্ড, কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তবে আগামীকালকের এই প্রাথমিক বৈঠকে কোন কোন দেশের পক্ষে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, সে বিষয়ে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক গোপনীয়তার স্বার্থেই প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি আলোচনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ সংঘাতেরই অবসান ঘটাবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে আরও জোরালো করবে। তবে চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকরের ক্ষেত্রে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। সুইজারল্যান্ডের এই প্রাথমিক সংলাপের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ধাপসমূহ।