নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান সরকার তাঁদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমানউল্লাহ আমান। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে আয়োজিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’-এর শিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সমাজে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবিক শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। একটি আদর্শ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত এই জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই উন্নয়ন ও সহযোগিতার ধারা আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আমানউল্লাহ আমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন। তিনি তৃণমূলের জনগণের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর রাখেন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকাই একজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতার মূল বৈশিষ্ট্য। তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের জীবনধারা ও মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো কাছ থেকে উপলব্ধি করেন বলেই জনকল্যাণে কার্যকর ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন। নেতৃত্বের মূল শক্তিই হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা, যা ধারণ করে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ আল আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন।