নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দেশের অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। দেশের ৫৩টি জেলার ৪ হাজার ১০৭ জন তালিকাভুক্ত উপকারভোগীর চিকিৎসার ব্যয় বহনে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের স্বাক্ষর করা ওই পত্রে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অতিরিক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট জেলাসমূহের সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে ইতিমধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। বরাদ্দের আর্থিক উৎস হিসেবে বলা হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব ৭৫ শতাংশ তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ বাজেটের অব্যয়িত অংশ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা যুক্ত করে মোট এই তহবিলের সংস্থান করা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় চিকিৎসা সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত রোগীদের জেলাভিত্তিক চাহিদা ও প্রাপ্ত আবেদনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।
জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নাটোর জেলায়। এছাড়া দিনাজপুরে ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে ৮০ লাখ টাকা, রংপুরে ৭০ লাখ টাকা, পাবনায় ৬০ লাখ টাকা এবং বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ অবশ্যই ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৯ (সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে ব্যয় করতে হবে। এই অর্থ বিতরণে বা ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এই বরাদ্দের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অবন্টিত বা অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জটিল ও ব্যয়বহুল এসব রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। অতিরিক্ত এই বরাদ্দের ফলে অর্থ সংকটে থাকা হাজারো অসচ্ছল রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ ক্রয়ের সুযোগ পাবেন, যা আক্রান্ত পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকাংশে লাঘব করতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।