নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং এর আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে বিগত বছরগুলোর বকেয়াসহ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ-রাজস্ব বিভাগের সহকারী পরিচালক সেলিনা আখতার স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে দেশের সব মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে এই বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নির্ধারিত ‘কোড-৩৮২১১০২’ ব্যবহার করে এই ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরকারি নিয়মানুযায়ী জরিমানাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা এড়াতে এই আগাম সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা জারি করা হলো।
জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, মাঠ পর্যায়ের সকল স্তরের প্রশাসনিক কার্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই আদেশের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সকল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই), উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত নির্দিষ্ট সরকারি তহবিল থেকে বকেয়া এবং চলতি বছরের করের অর্থ সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের ভূমি রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও গতিশীলতা আনয়নের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে এই মনিটরিং করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো কর পরিশোধ না করায় বকেয়া জমে যায়, যা পরবর্তীতে বাজেট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
জরুরি এই নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ের সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাদের নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের করের পরিমাণ নির্ধারণ করে তা দ্রুত পরিশোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কর পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।