বিশেষ প্রতিবেদক
টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে মৌলভীবাজার জেলায় সফরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম মৌলভীবাজার সফর। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জেলা সফরে এসে তিনি শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরে দুটি পৃথক জনসভা ও সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বুধবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভাস্থলে সমবেত হতে শুরু করেন। দুপুরের আগেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা ছাতা, রেইনকোট এবং পলিথিন মাথায় দিয়ে মাঠের ভেতরে অবস্থান নেন। মাঠের ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যাওয়ায় দুপুরের দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের চারপাশের সড়ক ও আশপাশের খোলা স্থানেও মানুষের বিপুল সমাগম দেখা যায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বৈরি আবহাওয়া সত্ত্বেও শ্রীমঙ্গলে এই ধরনের বিশাল জনসমাগম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ ঘোষণা ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন জেলাবাসী।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পূর্বে তীব্র বাতাসের কারণে উপকারভোগীদের বসার জন্য নির্মিত একটি অস্থায়ী প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং জনসভার মূল মঞ্চটি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়। সভাস্থলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা নিয়োজিত ছিলেন।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই জেলা সফরের মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকেরা।