ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তিনটি গোলই করেন এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে তাদের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখল, পাশাপাশি ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে নিজের কার্যকারিতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিলেন মেসি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে খেলতে থাকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এর সুফল তারা পায় ম্যাচের প্রথমার্ধেই। খেলার ১৭ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে সতীর্থ রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নেন লিওনেল মেসি। বল নিয়ে ডি-বক্সের অভিমুখে এগিয়ে গিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে একটি জোরালো শট নেন তিনি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান বলের গতিপথ রোধ করার চেষ্টা করলেও তা জালে জড়ানো থেকে আটকাতে পারেননি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
খেলার দ্বিতীয় অর্ধেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সতীর্থ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বল পান মেসি। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্যভেদ করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ রচনা করে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে এনসো ফের্নান্দেসের নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় মেসিকে। বিপক্ষ দলের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের সামান্য দূর থেকে বাঁ পায়ের দর্শনীয় শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক এবং দলের ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা লিওনেল মেসির এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয় এবং ২০২২ সালে দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ঘরে তোলে। কাতার বিশ্বকাপে সাতটি গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেও কোনো একক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব ছিল না তার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ এই আসরে নিজের অধরা মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট পর্বের সমীকরণে এই জয় এবং অধিনায়কের ফর্মে থাকা আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।