বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকার অভ্যন্তরীণ চারটি প্রধান আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানান্তরের তালিকায় থাকা রাজধানীর চার আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হলো— ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান, গাবতলী, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল। যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যেই এই টার্মিনালগুলো মহানগরের চারপাশের কৌশলগত প্রবেশদ্বারে সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। অন্যদিকে, মহাখালী বাস টার্মিনালটি প্রাথমিক ও অস্থায়ীভাবে পূর্বাঞ্চলে (পূর্বাচল সংলগ্ন এলাকা) এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছাকাছি কোনো উপযুক্ত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনালটি সাভারের হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট টার্মিনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজধানীর সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজধানীতে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরার কার্যকারিতা এবং এর সুফল প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার বাস টার্মিনালগুলোর অবস্থানের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার আন্তঃনগর বাস শহরের মূল সড়কে প্রবেশ করে। এর ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ঢাকার অভ্যন্তরীণ ট্রাফিক ব্যবস্থাকে স্থবির করে তোলে। বাস টার্মিনালগুলো শহরের শেষ সীমান্তে বা বাইরে স্থানান্তর করা হলে মহানগরের ওপর যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং ঢাকার প্রবেশপথগুলোর যানজট পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
উচ্চপর্যায়ের এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব এবং সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।