1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ, শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় দেশ। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় ছাড়াও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বর্তমানে মস্কো সফরে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম। বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন অন্যতম। আগামী ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপিত হতে যাচ্ছে। উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক মাইলফলকটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের ব্যাপারে যৌথ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্জনের বিষয়টি উঠে আসে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। জবাবে খলিলুর রহমান তার ইউএনজিএ সভাপতির প্রার্থিতার প্রতি রাশিয়ার ধারাবাহিক ও জোরালো সমর্থনের জন্য রুশ সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়। এসব উদীয়মান ও ঐতিহ্যগত খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী একমত পোষণ করেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (ডিএফকিউএফ) প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে রাশিয়ার অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে স্থাপিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) ও হাইটেক পার্কগুলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি রাশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে রাশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে রাশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে এই অর্থনৈতিক জোটের সদস্য দেশ পাঁচটি—রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। এর পাশাপাশি উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ‘ব্রিকস’ এবং ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’র (এসসিও) সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতি রাশিয়ার নীতিগত সমর্থন চান তিনি। জবাবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এসব বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার ইতিবাচক মনোভাবের কথা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবদান আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পায়। বাংলাদেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ায় রাশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট দ্রুত চালু করতে রাশিয়ার প্রয়োজনীয় কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ এবং সেখানে তাদের নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো দ্রুত সই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যার মধ্যে দুই দেশের নাগরিকদের পুনরায় গ্রহণ (রিডমিশন) চুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি অন্যতম। এছাড়া আইনি জটিলতায় রাশিয়ায় আটকে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও রুশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হলে ল্যাভরভ বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিল বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট। দুই নেতা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মিয়ানমারের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও এই আঞ্চলিক সংকটের একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানান সের্গেই ল্যাভরভ।

মস্কো সফরে উষ্ণ ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে সুবিধাজনক সময়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026