1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৮

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণযুক্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে হাসপাতালটিতে এই উপসর্গে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে মমেক হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. ঝন্টু সরকার সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া শিশুটি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বাসিন্দা ছিল। ৬ বছর বয়সী এই মেয়েশিশুটি রবিবার (৭ জুন) সকালে তীব্র হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন দুপুরেই তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারা যাওয়া শিশুটি কেবল হামের উপসর্গই নয়, বরং তীব্র পুষ্টিহীনতাসহ অন্যান্য জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগে ভুগছিল। অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা এবং দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের পরও তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ ও আশেপাশের জেলাগুলোতে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯ জন শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সর্বমোট ১১২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়ায়। সময়মতো প্রতিষেধক টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতি ও ধারাবাহিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে শেরপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেখানে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ ও জীবন রক্ষাকারী উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। একই সাথে শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ যেমন—তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ, সর্দি-কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026