জাতীয় ডেস্ক
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষককে আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই বৃহৎ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উদ্বোধনী পর্বের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং নীতি-নির্ধারকেরা অংশগ্রহণ করেন। যেখানে বক্তারা দেশের বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অবিহিত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশলগত উন্নয়ন তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, সরাসরি কর্মসংস্থান এবং ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের সিনাওত্রা ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সলফোর্ড উল্লেখযোগ্য। এই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিজেদের দক্ষ করে তোলার সুযোগ পাবে।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির অবস্থান সুদৃঢ় করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন থেকে ইংরেজির পাশাপাশি ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করছে। বৈশ্বিক যোগাযোগে সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দূরদর্শী উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক ‘মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজগুলোতে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব গঠনের কাজও গত তিন মাস ধরে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। প্রথাগত তাত্ত্বিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষকেরা যখন নিজেরা আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের পাঠদান পদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত হবেন, তখন তার সরাসরি সুফল পাবে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের এই ১২ হাজার জনবলের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো দেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে যুক্ত করতে এবং দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।